শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': একক নির্বাচন ঠেকাতে সংগ্রাম কমিটি গড়ুন: খালেদা


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
একক নির্বাচন ঠেকাতে সংগ্রাম কমিটি গড়ুন: খালেদা

বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের চেষ্টা প্রতিহত করতে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

সিলেটে শনিবারের জনসভায় তিনি নির্দলীয় সরকারের দাবি আবার জানিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে শুরু হওয়া ১৮ দলের এই জনসভায় বিকালে দেয়া বক্তব্যে আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারকে হুঁশিয়ার করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

খালেদা জিয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আওয়ামী লীগের একক নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য কেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠন করতে হবে। জনগণকে নিয়ে এই কমিটি করতে হবে। আমি এখন থেকে সংগ্রাম কমিটি গঠনের নির্দেশ দিচ্ছি।”

সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিদেশিদের চাওয়ার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “এককভাবে নির্বাচন করলে সেটা কোথাও গ্রহণযোগ্য হবে না। এককভাবে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না।”

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে আওয়ামী লীগের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে এবং তা আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।    

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বয়কটের হুমকি দিয়ে আসছে বিএনপি। এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি না এলেও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগকে ২০০৭ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সংবিধান অনুসরণ করে আপনি তখন বিচারপতি কে এম হাসানের অধীনে নির্বাচনে রাজি হলেন না কেন? আপনি তো আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, আপনার অধীনে নির্বাচন কীভাবে হবে?”

“এজন্যই আপনার (শেখ হাসিনা) অধীনে নির্বাচন হবে না। যতই চিৎকার করেন না কেন, আপনাকে বিদায় নিতেই হবে।”

২৪ অক্টোবরের পর জোরদার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সময় শেষ। এ সময়ের মধ্যে নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানলে ২৫ অক্টোবর থেকে আমরা আন্দোলন শুরু করব।”

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, “আপনার দলের অনেকে এখন বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। অনেকে পকেটে টিকিট কেটে ওপেন ভিসা নিয়ে ঘুরছে। সংগ্রাম কমিটি হলে আপনি দেখবেন- আপনার বায়ে, ডানে, সামনে, পেছনে কেউ নেই। তখন কেবল আমরাই থাকব।”

বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলেও প্রতিহিংসাপরায়ণ না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা আপনাকে সম্মানের সঙ্গে রাখব। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

সরকারি কর্মকর্তাদেরও দল নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কারো চাকরি খাওয়া হবে না। আপনারা দেশ ও মানুষের কথা চিন্তা করেন। অন্যায়ভাবে জনগণের ওপর গুলি চালাবেন না।”

“তাই এখনো বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) সংসদে নির্দলীয় সরকারের বিল এনে পাস করুন। যতদিন মেয়াদ আছে, আপনারা থাকুন। তবে একক নির্বাচন হলে রাজপথে দেখা হবে,” হুঁশিয়ারি দেন খালেদা জিয়া।

ঈদের পর নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণার আগে গণসংযোগের অংশ হিসেবে সিলেটে এই জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর আগে নরসিংদী, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনায় জনসভা করেন তিনি।

ঢাকা থেকে শুক্রবার রওনা হয়ে সিলেটে পৌঁছে রাতে সার্কিট হাউজে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। দুপুরে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করে বেলা ৩টায় জনসভাস্থলে আসেন তিনি।

৫০ মিনিটে বক্তব্যে সরকারের ‘দুর্নীতি-দলীয়করণের’ সমালোচনার পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে, তাও বলেন খালেদা জিয়া।

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, “সরকার প্রশাসন, বিচার বিভাগ সব কিছু দলীয়করণ করে ফেলেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন হলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কারণ ডিসি, এসপি, টিএনও, ওসি সবাই প্রধানমন্ত্রীর কথামতো কাজ করবে।

“নির্দলীয় সরকার ছাড়া সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে হলে দুই পক্ষের জন্য নির্বাচনের মাঠ মসৃণ হতে হবে। উঁচু-নিচু হলে চলবে না।”

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “বর্তমান ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা শুধু ‘জি স্যার’, ‘জি স্যার’, ‘জি স্যার’ করেন। তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।”

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে দুপুর ১২টায় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হকের সভাপতিত্বে কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভা শুরু হয়।

খালেদা জিয়া যখন সভাস্থলে পৌঁছান, তখন কানায় কানায় ভরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

১৮ দলের এই জনসভার আগে সকাল থেকে জামায়াত-শিবির ও জমিয়তে উলামা ইসলামের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক মহড়া দেখা যায়। জনসভাস্থলে তাদের একের পর এক মিছিল আসছিল।

দুপুরের পর বিএনপি ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের মিছিল আসতে থাকে। বেলা দেড়টার দিকে ছাত্রদলের মিছিল এলে বসা নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরকর্মীদের সঙ্গে তাদের মারামারি বাঁধে, পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সিলেটের এই জনসভায় মাঠের চারপাশে ছিল এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবিতে তার ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার। নিখোঁজ বিএনপি নেতার ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালের ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানারে আকুতি ছিল- ‘আমার আব্বুকে ফিরিয়ে দাও’।

দেড় বছর আগে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী।

জনসভায় বক্তব্যে খালেদা জিয়াসহ সব নেতারাই ইলিয়াস আলীকে স্মরণ করেন। খালেদা জিয়া বলেন, টিপাইমুখ বাঁধের বিরোধিতা করায় বিরোধী দলের এই নেতাকে ‘গুম’ করা হয়েছে। 

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাও জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

সিলেটের নেতা ও অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান ছবি সম্বলিত ব্যানারও ছিল জনসভায়। গত ৫ জুন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নামেও ব্যানার ছিল।

কর্দমাক্ত মাঠ ছাড়িয়ে জনসভার বিস্তার উত্তর পাশে আম্বরখানা সড়ক, দক্ষিণে জিন্দাবাজার সড়ক,  পুরাতন মেডিকেল কলেজ সড়ক, পশ্চিমে রিকাবি বাজার ভিআইপি সড়ক, পূর্বে চৌহাট্টা মীরবক্সটোলা সড়কে ছড়িয়ে যায়।

সিলেটের ১২টি উপজেলা ছাড়াও সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ থেকেও বাস-ট্রাকে করে হাজার হাজার নেতা-কর্মী এই জনসভায় যোগ দেয়।

খালেদা জিয়ার আগমন ঘিরে সার্কিট হাউজ থেকে মাঠ এলাকাসহ গোটা মহানগরীতে নির্মাণ করা হয় কয়েকশ’ তোরণ। সারি সরি রঙিন পতাকা দিয়ে সড়কের দুই পাশ সাজানো হয়।

জনসভায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, সাদেক হোসেন খোকা, শমসের মবিন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ওসমান ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শাম্মী আখতার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মীর সরফত আলী সপু, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

১৮ দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সাংসদ আ ন ম শামসুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের আমির আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসহাক, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জমিয়তে উলামা ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শাহীনুর পাশা চৌধুরী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান প্রমুখ।

সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস, সিনিয়র সহসভাপতি দিলদার হোসেন সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমেদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মৌলভীবাজারের সভাপতি এম নাসের রহমান, সুনামগঞ্জের সভাপতি ফজলুল হক আসপিয়া, হবিগঞ্জের সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়সল জনসভায় বক্তব্য দেন।

সিলেটের জামায়াত নেতা সায়েফ আহমেদ, আনোয়ার হোসাইন, হাবিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা ফয়জুল হক জালালাবাদী, খেলাফত মজলিশের নেতা হাজী নুরুজ্জামান, জমিয়তে উলামা ইসলামের নেতা মনসুরুল হাসান রায়পুরী, জিয়াউদ্দিন, জাগপা নেতা মকসুদ আহমেদও জনসভায় বক্তব্য দেন।

শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': চাঁদা না দেয়ায় গোবিন্দগঞ্জে বিয়ে বাড়িতে হামলা, নিহত ১


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
চাঁদা না দেয়ায় গোবিন্দগঞ্জে বিয়ে বাড়িতে হামলা, নিহত ১

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চাঁদা না দেয়ায় আজ শুক্রবার একদল দুর্বৃত্ত বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে মঞ্জু মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত মঞ্জু মিয়া উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ছোট সোহাগী গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত রফিকুল ইসলাম (৩২), রোকেয়া বেগম (৫০), শাবানা বেগম (৩০), শরিকুল ইসলাম (২৫) ও নূরুল আলম (৩০) কে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ছোট সোহাগী গ্রামের ধলু মিয়ার মেয়ে আলেফা বেগমের (২০) সম্প্রতি ঢাকার আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়। এই বিয়েতে স্থানীয় 'সোহাগী ইউনিটি' নামীয় ক্লাবের সদস্যরা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ধলু মিয়া চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তারা গত রবিবার আলেফার স্বামী আব্দুর রাজ্জাককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ক্লাবে আটকে রাখে। পরে আট হাজার টাকার চাঁদার বিনিময়ে আবদুর রাজ্জাককে ছাড়িয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে আজ সকালে আবারো 'সোহাগী ইউনিটি' নামীয় ক্লাবের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাকী টাকা আদায়ের জন্য ধলু মিয়ার বাড়ি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তার ভাতিজা শরীফুল ইসলামকে (৩০) তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে উদ্ধারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরকে এলোপাথাড়ি কোপায় 'সোহাগী ইউনিটি' নামীয় ক্লাবের সদস্যরা। এতে ছয়জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে ধলু মিয়ার ভাতিজা মঞ্জু মিয়া মারা যান।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার ও ঘটনা তদন্তে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':খন্দকার মাহবুবের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ

খন্দকার মাহবুবের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ


প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বৃহস্পতিবার বিচারপতি এটিমএম ফজলে কবীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই আবেদন করেন।
এ বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার দিন রেখেছেন বিচারক।
খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে কেন অদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না এবং কেন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তার মন্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হবে না- তা জানতে নির্দেশ চাওয়া হয়েছে প্রসিকিউশনের আবেদনে।
হত্যা, গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের নয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। 
এরপর সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া জানায় বিএনপির আইনজীবী নেতারা।
khondokar mahbub.pngবিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহাবুব হোসেন বলেন,  “এই বিচারটি একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। ইনশাল্লাহ জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ক্ষমতায় আসে, সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের বিচার হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা প্রতিহিংসার জন্য যাদের বিচার করা হয়েছে, কাল্পনিক গল্প দিয়ে যে মামলা তৈরি করা হয়েছে, অবশ্যই সেটা চলে যাবে। যারা এই প্রহসনের বিচারে সম্পৃক্ত ছিল, ইনশাল্লাহ বাংলার মাটিতে তাদেরও বিচার হবে।”
চিফ প্রসিকউটর গোলাম আরিফ টিপু বুধবার মাহবুব হোসেনের মন্তব্যের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হলে বিচারক লিখিতভাবে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে আবেদন জমা দিয়ে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, “একজন আইনজীবী এ রকম মন্তব্য করায় জনমনে ট্রাইব্যুনালের কার্যকম নিয়ে অনাস্থা ও বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে।”
এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ১১ (৪) ধারা অনুযায়ী খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': ‘সেই মাহবুব এখন ঘাতকদের পক্ষে'


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন'
‘সেই মাহবুব এখন ঘাতকদের পক্ষে’

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তাকারী বাঙালিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে খন্দকার মাহবুব হোসেনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তার এখনকার তৎপরতার সমালোচনা করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সমালোচনাকারী মাহবুবের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “১৯৭২ সালে কোলাবরেটর আইনে যখন বিচার চলছিল, তখন ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পিপির দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব হোসেন। এখন সেই ঘাতকদের পক্ষ নিয়ে তিনি কথা বলছেন।”

মুক্তিযুদ্ধের পর শুরু হওয়া বিচার কার্যক্রম বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে থেমে যায়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৩ সালের আইন সংশোধন করে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেছে।

এই পর্যন্ত রায়ে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ শীর্ষনেতার সাজা হয়েছে, এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড হয়েছে চারজনের। সপ্তম রায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।   

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব হোসেন যুদ্ধাপরাধের বর্তমান বিচারের সমালোচনা করে আসছেন।  

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মাহবুব হোসেন মঙ্গলবার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের পর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিচারক ও বিচার সংশ্লিষ্টদের বিচারের হুমকিও দেন।

তিনি বলেন, “এই বিচারটি একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার।যারা এই প্রহসনের বিচারে সম্পৃক্ত ছিল, ইনশাল্লাহ বাংলার মাটিতে তাদেরও বিচার হবে।”

তার ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কামরুল বলেন, “বিচারক ও বিচার সংশ্লিষ্টদের বিচারের হুমকি দেয়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বড় অন্তরায়। তার (মাহবুব হোসেন) এই হুমকি আদালত অবমাননার সামিল।”

বর্তমানে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের এই নেতা এই বক্তব্যের মাধ্যমে ‘পেশাগত নৈতিকতা’ লঙ্ঘন করেছেন বলে মনে করেন অ্যাডভোকেট কামরুল।

মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, আদালত সেই চিন্তা করবে, আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।”

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার দেয়া রায় আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি এবং তা আগেই ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে গণহত্যায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদেরের পরিবার ও বিএনপি।  

কথিত রায় ফাঁসের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোনো কিছু হলে সেখান (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) থেকে হতে পারে।”

খসড়া রায় ফাঁসের তথ্য জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

“এর সঙ্গে কারা জড়িত তা অনুমান করা গেলেও তদন্ত করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।”

দৈনিক আজিজ:'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': রায় গ্রহণযোগ্য নয়,কাল দেশজুড়ে বিক্ষোভ : বিএনপি


দৈনিক আজিজ:'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
রায় গ্রহণযোগ্য নয়,কাল দেশজুড়ে বিক্ষোভ : বিএনপি

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। 

বিএনপি বলেছে, এই রায়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সুবিচার পাননি, আমরা এ রায়ে বিস্মিত। এটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার হীন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করা এবং সুপরিকল্পিতভাবে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসে সরকারি অপচেষ্টার প্রতিবাদে কাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রিয়ভাবে বিকাল ৩টায় রাজধানীর সোহরওয়ার্দী উদ্যানে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

আজ বুধবার বিকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বিস্মিত। এই ট্রাইব্যুনাল গঠন ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে ও বিদেশে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপি সব সময়ে বলে আসছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিমূর্ল করতে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। স্কাইপে কেলেঙ্কারি ও রায় ফাঁস হওয়াতে এই রায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এভাবে রায় দেওয়ার ঘটনা বিশ্বে নজিরবিহীন। রায় ফাঁসের ঘটনা স্বয়ং আইনমন্ত্রী নিজে স্বীকার করে তা তদন্তের কথা বলেছেন আর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে।

ফখরুল বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে দুইজন বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষ্য দিতে চাইলেও, পারেনি। একজন সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত অনুমতি চাইলেও তিনি সাক্ষ্য দিতে পারেননি। এছাড়া একজন সাক্ষী হলফ করে বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ সালাহউদ্দিন চৌধুরী দেশ ত্যাগ করে পাকিস্তানে যান এবং সে বছর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত লন্ডনে ছিলেন। আর যে নয়টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তা ১৩ এপ্রিল থেকে ২২ জুলাইর মধ্যে সংঘঠিত হয়/

দৈনিক আজিজ:'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': বিচারের সাথে সম্পৃক্তদের বিচার করা হবে::খন্দকার


দৈনিক আজিজ:'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
বিচারের সাথে সম্পৃক্তদের বিচার করা হবে::খন্দকার 
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। ভবিষ্যতে যদি প্রমাণ হয়, অন্যায়ভাবে বা সরকারের সঙ্গে কোন যোগসাজসে বা কোন প্রলোভোনে এই বিচার করা হয়েছে হা হলে এই সঙ্গে যুক্ত যারা তাদের ও বিচার করা হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের পর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। 

খন্দকার মাহবুব বলেন, ইনশাল্লাহ জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ক্ষমতায় আসে, সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের বিচার হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা প্রতিহিংসার জন্য যাদের বিচার করা হয়েছে, কাল্পনিক গল্প দিয়ে যে মামলা তৈরি করা হয়েছে, অবশ্যই সেটা চলে যাবে। 

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বার বার বলে এসেছি যে, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সেটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন হবে সে বিচারে। আমরা দেখতে পাচ্ছি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ন্যায় ব্যক্তি, যার পিতা '৭২ সালে সেন্ট্রাল জেলে দালাল আইনে আটক ছিলেন। তখন তার (সালাহউদ্দিন) নাম ছিল না। দীর্ঘ ৪০ বছর পর তাকে এই মামলায় আসামি করা হয়। তিনি বলেন, যারা তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানে লেখাপড়া করেছেন, তাদেরই একজন বর্তমানে যিনি একজন বিচারপতি, তাকে সালাহউদ্দিনের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। ওই বিচারপতিরও আগ্রহ ছিল সত্য কথা ট্রাইব্যুনালে বলার জন্য যে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন। কিন্তু তাকেও সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। এই কারণেই আমরা বলতে চাই, এই বিচারটি একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তবে সেই বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকমান সম্পন্ন। বাদী ও অভিযুক্ত উভয়পক্ষের অধিকারকে সমুন্নত রেখে বিচার করতে হবে। কিন্তু সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষীকে সুযোগ না দিয়ে তার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ন্যায় বিচারের পক্ষে। বিচার এমন হতে হবে, যেন দেশে-বিদেশে এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত না হয়। আমরা মনে করি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জার্িতক আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আপিল করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আশাকরি আপিলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আমরা আশাকরি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হবে। পদ্ধতিগত যে সব ভুল ছিল সেগুলো উচ্চ আদালত দেখবে। আপিলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী খালাস পাবেন। 

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী ও সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ:'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন' সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন'
সালাহউদ্দিন  কাদের চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরে নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা ২৩ টি অভিযোগের মধ্যে হত্যা, গণহত্যাসহ নয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, আটটি অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এছাড়া ছয়টি অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, অভিযোগ সংগঠিত হওয়ার সময়ে তিনি পাকিস্তানে ছিলেন; দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের দেয়া এমন সাক্ষ্য আমলে নেয়নি ট্রাইব্যুনাল। 

রায় ঘোষণার পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, নতুন চন্দ্রসিংহ হত্যাকাণ্ডসহ অভিযোগ চারটিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনটি অভিযোগে ২০ বছর করে কারাদণ্ড, দুইটি অভিযোগে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও গণহত্যার দায়ে তার এ শাস্তি ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল।

যে নয়টি অভিযোগে সালাহউদ্দিন কাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে সেগুলো হলো- ২ নম্বর অভিযোগ মধ্য গহিরায় গণহত্যা, ৩ নম্বর অভিযোগ নূতন চন্দ্র হিংস হত্যা, ৪ নম্বর অভিযোগ জগত্মলল পাড়া গণহত্যা, ৫ নম্বর অভিযোগ সুলতানপুরে নেপাল চন্দ্র ও অপর তিনজনকে হত্যা, ৬ নম্বর অভিযোগ ৬৯ পাড়া গণহত্যা, ৭ নম্বর অভিযোগ সতিশ চন্দ্র পালিত হত্যা, ৮ নম্বর, ১৭ নম্বর অভিযোগ নিজাম উদ্দিন আহম্মদকে অপহরণ ও নির্যাতন এবং ১৮ নম্বর অভিযোগ সালেহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ ও নির্যাতন।

যে আটটি অভিযোগ থেকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে খালাস দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- ১ নম্বর অভিযোগ গুডস হিলে সাতজনকে অপহরণ ও নির্যাতন করে, ১০ নম্বর অভিযোগ মানিক ধরের বাড়ি লুট, ১১ নম্বর অভিযোগ বোয়াল খালী গণহত্যা, অভিযোগ মোজাফফর ও তার ছেলে শেখ আলমগীর হত্যা, ১২ নম্বর অভিযোগ বিজয়কৃষ্ণ ও দুইজনকে হত্যা, ১৪ নম্বর অভিযোগ হানিফ হত্যা, ১৯ নম্বর অভিযোগ মাহবুব আলম হত্যা, ২০ নম্বর অভিযোগ এখলাস হত্যা এবং ২৩ নম্বর অভিযোগ সলিমুল্লাহর উপর নির্যাতন। যে ছয়টি অভিযোগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করেননি সেগুলো হলো- ৯, ১৩, ১৫, ১৬, ২১ এবং ২২।

রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিএনপির এই নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়। এ সময় অন্যান্য দিনের চেয়ে তাকে বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

গত ১৪ আগস্ট মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া শেষে সালাহউদ্দিন কাদেরের রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষ একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ ১৭ টি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হাজির করে। সাক্ষীদের দাবি কোন কোন ঘটনা তার উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে বলেছেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওই সময়ে বাংলাদেশেই ছিলেন না। তিনি সে সময় লেখাপড়ার জন্য পাকিস্তানে ছিলেন। পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহপাঠী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বিচারপতি শামীম হাসনাইনও প্রধান বিচারপতির কাছে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছিলেন, সালাহউদ্দিন কাদের ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছিলেন। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবির মুখে আজ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করল।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম গতকাল বলেন, এটি মিথ্যা মামলা। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ১৯৭৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। এটা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। রাষ্ট্রপক্ষ জেরাকালে সালাহউদ্দিন কাদেরকে প্রশ্ন করেছিল, তিনি বেনামে ও বেআইনিভাবে ১৯৭৪ সালে দেশে এসেছিলেন। এ প্রশ্নের মাধ্যমে তারা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ১৯৭১ সালে সালাহউদ্দিন কাদের দেশে ছিলেন না। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেছেন ১৯৭১ সালে সালাহউদ্দিন কাদের বাংলাদেশে ছিলেন এ মর্মে তার কাছে কোনো দলিলপত্র নেই।

ফখরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী গোপাল জবানবন্দীতে বলেছেন, তিনি সালাহউদ্দিন কাদেরকে দেখেছিলেন। কিন্তু জেরার জবাবে তিনি বলেছেন, ১৩ এপ্রিল ১৯৭১ সাল থেকে ২৮ এপ্রিল ভারত যাওয়ার পথে ২৭ এপ্রিল তিনি একবার মাত্র কুন্ডেশ্বরীতে গিয়েছিলেন। অতএব ১৩ এপ্রিল কুন্ডেশ্বরীতে সালাহউদ্দিন কাদেরকে দেখা একটা মিথ্যা। সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষের শেখানো মতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ধরনের সাক্ষীর উপর ভিত্তি করে কোনো সাজা হলে তা হবে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সালাহউদ্দিন কাদেরকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই মিথ্যা মামলা থেকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বেকসুর খালাস পাবেন।

২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১১ সালের ১৭ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে ১৭ নভেম্বর তা আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।