বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ:'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': বিচারের সাথে সম্পৃক্তদের বিচার করা হবে::খন্দকার


দৈনিক আজিজ:'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
বিচারের সাথে সম্পৃক্তদের বিচার করা হবে::খন্দকার 
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। ভবিষ্যতে যদি প্রমাণ হয়, অন্যায়ভাবে বা সরকারের সঙ্গে কোন যোগসাজসে বা কোন প্রলোভোনে এই বিচার করা হয়েছে হা হলে এই সঙ্গে যুক্ত যারা তাদের ও বিচার করা হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের পর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। 

খন্দকার মাহবুব বলেন, ইনশাল্লাহ জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ক্ষমতায় আসে, সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের বিচার হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা প্রতিহিংসার জন্য যাদের বিচার করা হয়েছে, কাল্পনিক গল্প দিয়ে যে মামলা তৈরি করা হয়েছে, অবশ্যই সেটা চলে যাবে। 

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বার বার বলে এসেছি যে, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সেটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন হবে সে বিচারে। আমরা দেখতে পাচ্ছি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ন্যায় ব্যক্তি, যার পিতা '৭২ সালে সেন্ট্রাল জেলে দালাল আইনে আটক ছিলেন। তখন তার (সালাহউদ্দিন) নাম ছিল না। দীর্ঘ ৪০ বছর পর তাকে এই মামলায় আসামি করা হয়। তিনি বলেন, যারা তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানে লেখাপড়া করেছেন, তাদেরই একজন বর্তমানে যিনি একজন বিচারপতি, তাকে সালাহউদ্দিনের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। ওই বিচারপতিরও আগ্রহ ছিল সত্য কথা ট্রাইব্যুনালে বলার জন্য যে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন। কিন্তু তাকেও সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। এই কারণেই আমরা বলতে চাই, এই বিচারটি একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তবে সেই বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকমান সম্পন্ন। বাদী ও অভিযুক্ত উভয়পক্ষের অধিকারকে সমুন্নত রেখে বিচার করতে হবে। কিন্তু সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষীকে সুযোগ না দিয়ে তার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ন্যায় বিচারের পক্ষে। বিচার এমন হতে হবে, যেন দেশে-বিদেশে এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত না হয়। আমরা মনে করি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জার্িতক আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আপিল করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। আশাকরি আপিলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আমরা আশাকরি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হবে। পদ্ধতিগত যে সব ভুল ছিল সেগুলো উচ্চ আদালত দেখবে। আপিলে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী খালাস পাবেন। 

এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী ও সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন