রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': :জামায়াত ধর্ম বিরোধী: সৈয়দ হায়দার মউদুদী:


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
:জামায়াত ধর্ম বিরোধী: সৈয়দ হায়দার মউদুদী:

একাত্তরে গণহত্যা, নির্যাতনের জন্য জামায়াতে ইসলামের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর পুত্র সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী। এ দেশে ‘জামায়াতে ইসলামি' নামের রাজনৈতিক দলটির কোন রাজনীতি করার অধিকার নেই, এমনও বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গণহত্যার এই অভিযোগ কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারবে না জামায়াত। নেতারা তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা না চাওয়ার কারণে দলের তরুণ কর্মীরা বিপাকে পড়েছে। তারা কোনদিকে যাবে তা তারা বুঝতে পারছে না।'
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে সৈয়দ হায়দার মওদুদী এখন বাংলাদেশে। রবিবার তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবীর।
হায়দার মওদুদী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাচালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার প্রধান জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী একবার পাকিস্তানে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি বাঙালিদের দমনে আলবদর বাহিনী গঠন এবং তাদের প্রশিক্ষণের কথা স্বীকার করেন।
মওদুদীর ছেলে বলেন, আলবদর বাহিনীর সাথে জামায়াতের সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ এই বাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় তিনি একবারে ১৫ জন বাঙালিকে হত্যা করার কথা জানিয়েছিলেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।  তার ওপরে ছিলেন জামায়াতের একজন নায়েবে আমির। এরপরও জামায়াতের এই কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
মওদুদীর ছেলে আরো বলেন, "অপরাধ স্বীকার করে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। তারা বলতে পারে, আমাদের নেতারা যা করেছে তা ভুল করেছে। আমরা এর জন্য ক্ষমা চাই। নইলে দলের তরুণরা কোনদিকে যাবে? তারা না পারছে এইদিকে থাকতে না পারছে ওদিকে যেতে।"
সৈয়দ হায়দার মওদুদী বুধবার বাংলাদেশে আসার পর থেকেই আলোচনার খোরাক হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি করার অধিকার নেই-এমন বক্তব্য দেয়ার পর থেকে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তোরা হচ্ছে। মওদুদীর সম্পত্তির লোভে তিনি দলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, এমন কথাও ছড়াচ্ছে জামায়াত। এরও জবাব দেন মওদুদীর ছেলে। তিনি বলেন, "জামায়াত কোন অধিকারে এসব কথা বলে। আমি কি তাদের সাথে কোনো কথা বলেছি নাকি বাংলাদেশ জামায়াতের সাথে কোনো যোগাযোগ করেছি। আর আমার বাবার সম্পত্তিতে তো আমাদেরই অধিকার আছে। জামায়াতের তো নাই।"
মওদুদীর ছেলে হয়েও জামায়াতে যোগ দেননি হায়দার মওদুদী। কেবল তিনি না, তার নয় ভাইয়ের কাউকে জামায়াতের রাজনীতিতে জড়াতে দেননি মওদুদী। তিনি জানান, কেবল রাজনীতি না, জামায়াতের কোনো বইপত্র পড়তে দেননি তাঁর বাবা।
সৈয়দ হায়দার মওদুদী জানান, জামায়াত প্রতিষ্ঠার আগে ভারতে প্রখ্যাত মুসলিম নেতা আবুল কালাম আযাদের সঙ্গে তার বাবার কথা হয়েছিল। জামায়াতের গঠনতন্ত্র এবং উদ্দেশ্য পড়ে আযাদ তাঁকে এমন কোনো দল গড়তে নিষেধ করেছিলেন। এ ধরনের দল হলে সব সাম্প্রদায়িক শক্তি এতে ভিড় করবে বলেও হুঁশিয়ার দিয়েছিলেন তিনি। হায়দার মওদুদী বলেন, আবুল কালাম আযাদের ভবিষ্যতবাণী সত্য হয়েছে।
হায়দার মওদুদী বলেন, ‘কেউ জামায়াতের বিরোধীতা করলেই তাকে অমুসলিক-কাফের বলে তারা। কিন্তু ইসলামের নামে এভাবে বিভক্তি করা কোনো মুসলমান করতে পারে না।'
তিনি আরো বলেন, "মুসলিম লীগ বলতো কেবল তারাই মুসলমান। জামায়াতও তাই করে। এটা কেমন কথা। এরা ইসলামের নামে এভাবে বিভক্তি করে ইসলামের ক্ষতি করছে। মহানবী (সা.) এর দল একটিই। কোনো ইসলামী দল একে ভাগ করতে পারে না।"
মওদুদীর ছেলে বলেন, "ইসলামের নামেই জামায়াত সব অপকর্ম করেছে। তারা আল্লাহু আকবার বলেই মুসলমানদের হত্যা করেছে। এটা কেমন কথা? আল্লাহ্ তো বলেছেন হত্যা করা গুরুতর অপরাধ। এখন তো এই অপরাধের বিচার হচ্ছে। এর বিরোধীতা করাও উচিত না কারও।"

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন