দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
:আব্দুল আলীমের আমরণ কারাদন্ড:
সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবীদ আব্দুল আলীমকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ বিচারকক্ষে গতকাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ৮৩ বছর বয়সি প্রবীণ এ রাজনীতিবিদকে এই দন্ড- প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা ১৭টি অভিযোগের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে নয়টি। প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি আটটি অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে আসামিকে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে আসামিপক্ষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটিই অষ্টম এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লি¬ষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রায়। ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য পর্যায়ক্রমে পাঠ করেন ইংরেজিতে লিখিত ১৯১ পৃষ্ঠা রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় রায় ঘোষণা উপলক্ষে।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রায়ে বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি ঘটনায় আলীমের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ঘটনায় আলীম যেভাবে গণহত্যা ও হত্যাদন্ড ঘটিয়েছেন অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। কোনো মানুষ, যে ফিজিকালি ও মেন্টালি আনফিট, তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিৎ নয়। কিন্তু আব্দুল আলীমের অপরাধ এতোটাই ঘৃণ্য, তাকে মুক্ত রাখলে মানবতার অবমাননা হবে। এ কারণে তাকে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বাকি জীবন কাটাতে হবে। তাহলে হয়তো কৃতকর্মের জন্য তার ভেতরে অনুশোচনার সৃষ্টি হবে।
এদিকে রায়ের পর আব্দুল আলীমের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা বলেছেন, আমরা আপিল করব। এ মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষ দাবি করেছিলো, প্রসিকিউশন যেসব স্থানে যেসব ঘটনায় আলীমের জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে, সেখানে সে সময় তিনি উপস্থিতই ছিলেন না। কিন্তু রায়ে বিচারক বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওই দাবি প্রমাণ করতে পারেনি। এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আহসানুল হক বলেন, ‘নো কমেন্টস’। অপরদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, আদালতের রায় আমাদের মানতে হবে। আমরা অবনত মস্তকে মেনে নিচ্ছি। তবে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় হলে আমাদেরও ভালো লাগতো। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে কোনো গ্রাউন্ড পাওয়া গেলে আপিল করবো। রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও আপিলের বিষয়ে একই কথা বলেছেন। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আব্দুল আলিম যে যুদ্বাপরাধী তা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তার শারীরিক অক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে আমৃত্যু কারাদ- দিয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এ প্রসিকিউটর বলেন, আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার রেওয়াজ বিলুপ্ত হবে।
প্রথম কার্যক্রম :
গতকাল সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এজলাসে আসন গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ডান পাশে ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং কনিষ্ঠ সদস্য বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম আসন গ্রহণ করেন বাঁ পাশে। মূল রায়ের পাঠ শুরু হয় এরপরে। ৬৮৮ অনুচ্ছেদ সংবলিত রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ থেকে প্রথমে পাঠ করেন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। ১০টা ৫৪ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম রায় পড়েন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। এরপর রায় পড়া শুরু করে ১২টা ৮ মিনিটে তা শেষ করেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া। আর শেষ অংশের পাঠ শুরু করে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান দন্ড ঘোষণার পর রায় দেওয়া শেষ করেন বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। রায় ঘোষণার পর সঙ্গে সঙ্গে এজলাস ত্যাগ করেন ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য। দন্ড শুনে কোন মন্তব্য করেননি আবদুল আলীম। রায় ঘোষণা উপলক্ষে এর আগে সকাল পৌনে দশটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয় আলীমকে। হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয় ১০টা ৩৫ মিনিটে।
বিচারকক্ষ:
এজলাস সামনে রেখে ডান পাশে প্রসিকিউটররা আসন গ্রহণ করেন প্রসিকিউশনের জন্য নির্ধারিত স্থানে। বাঁ পাশে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল হক ও অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট এম কে রহমান, প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী, অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ। ছিলেন ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম এবং খালিদ বিন আলীমও। আর স্ট্রেচারে ভর করে কাঠগড়ার চেয়ারে ছিলেন আবদুল আলীম। এ ছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়।
প্রমাণিত নয়টি অভিযোগ:
ট্রাইব্যুনালে ১৭টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আবদুল আলীমের বিচার শুরু হয় ২০১২ সালের ১১ জুন। অভিযোগের মধ্যে ছিল, গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুট ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধ। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, দ্বাদশ ও চতুর্দশ অভিযোগ। এর মধ্যে প্রমাণিত দ্বিতীয়, অষ্টম, দশম ও চতুর্দশ অভিযোগে আমৃত্যু কারাদন্ড দেওয়া হয় আলীমকে। আর ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম ও দ্বাদশ অভিযোগে ২০ বছর করে এবং প্রথম অভিযোগে দশ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় আসামিকে। তবে প্রমাণিত না হওয়ায় আলীমকে খালাস দেওয়া হয় বাকি সব অভিযোগ থেকে। এর মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষী হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন।
প্রথম অভিযোগ অনুসারে, ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল আলীমের নেতৃত্বে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার দমদমা গ্রামের মেহেরউদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে হামলা চালায় রাজাকার বাহিনী। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন মেহেরউদ্দিন। দ্বিতীয় অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল জয়পুরহাটের কড়ইকাদিপুর এলাকার চকপাড়া, সোনার পাড়া, পালপাড়া ও যুগীপাড়ার হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের মোট ৩৭০ জনকে গুলি করে হত্যা করে আলীমের নেতৃত্বাধীন রাজাকার বাহিনীসহ পাকিস্তানি সেনারা। ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের মে মাসের প্রথম দিকে আটক করা হয় আক্কেলপুরের দশজনকে। তাদের ‘শেষ করে দেওয়া’র নির্দেশ দেন আলীম। পরে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হলে হত্যা করা হয় নয়জনকে। তাদের মধ্য থেকে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হন মোফাজ্জল নামের এক ব্যক্তি। সপ্তম অভিযোগ বলছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মে অপহরণের পর আলীমের পরামর্শ ও প্ররোচনায় গুলি করে হত্যা করা হয় নওদা গ্রামের চার জনকে। অষ্টম অভিযোগ অনুযায়ী, একাত্তরের মে মাসের শেষের দিকে আলীমের নির্দেশে হত্যা করা হয় বাদল, সচীন ওরফে ভানু, প্রবাস চন্দ্র শীল, মনিভূষণ চক্রবর্তী, কার্তিক চন্দ্র বর্মণ, নিমাই চন্দ্র বর্মণ ও প্রিয়নাথ বর্মণসহ অপরিচিত আরও তিন জনকে। নবম অভিযোগ হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ১৪ জুন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর হয়ে ভারতে যাওয়ার পথে শান্তি কমিটির লোকজনের হাতে ধরা পড়েন বগুড়ার খোকন পাইকারসহ ১৫ যুবক। এরপর তাদের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শেষে হত্যা করা হয় আলীমের নির্দেশে। দশম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের জুন মাসের শেষের দিকে জয়পুরহাটের সদর রোডের শাওনলাল বাজলার গদিঘরে শান্তি কমিটির অফিসে বসে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সন্দেহে পাহাড়পুর থেকে ধরে আনা ২৬ যুবককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন আলীম। পরে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই ২৬ যুবককে। দ্বাদশ অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই অপহরণের পর ব্যাপক নির্যাতন শেষে আলীমের নির্দেশে ডাক্তার আবুল কাশেমকে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৬ জুলাই। চতুর্দশ অভিযোগে বলা হয়, আক্কেলুপুর সদরের ফজলুল করিম ও অন্য দুজনকে আলীমের নির্দেশে মুখে চুনকালি মাখিয়ে জয়পৃরহাট শহর প্রদক্ষিণ করানো হয় ১৯৭১ সালের ৭ অক্টোবর। পরে তাদের হত্যা করা হয় গুলি করে।
যেসব অভিযোগে খালাস:
তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুল আলীমের পরামর্শ ও প্ররোচনা এবং চিরোলা গ্রামের শান্তি কমিটির সদস্য রিয়াজ মৃধার সহাযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা ২৮ জনকে বেঁধে গুলি করে একাত্তরের আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহে। এতে নিহত হন ২২ জন। ছয়জন বেঁচে যান প্রাণে। চতুর্থ অভিযোগ থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একদিন পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে আলীম নামেন পাঁচবিবি বকুলতলা রেললাইনের কাছে। এরপর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কোকতারা, বাগজানা ও কুটাহারা গ্রামে হানা দিয়ে বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয় এবং ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয় ১৯ জনকে। পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের বৈশাখ মাসের শেষ দিকে জয়পুরহাটের দক্ষিণ পাহুনন্দা মিশন স্কুলে আলীমের নির্দেশ ও প্ররোচনায় হত্যা করা হয় ৬৭ জন হিন্দুকে। একাদশ অভিযোগ অনুসারে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জুন মাসের শেষের দিকে কয়েকজন গাড়োয়াল এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ আটক করা হয় ২৬ জনকে। এরপর গুলি হত্যা করে তাদের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় আলীমের নির্দেশে। ত্রয়োদশ অভিযোগ থেকে বলা হয়, একাত্তরের সেপ্টেম্বরে আলীমের নির্দেশ ও পরামর্শে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে হত্যা করে ১১ যুবককে। পঞ্চদশ অভিযোগ হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর ২৫ জনকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয় আলীমের নির্দেশে। পরে তাদের হত্যা করা হয়। ষোড়শ অভিযোগ বলছে, একাত্তরে আক্কেলপুরের বিভিন্ন স্থানে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের মানবতাবিরোধী অপরাধে উৎসাহিত করেন আলীম। সপ্তদশ অভিযোগ হচ্ছে, রাজাকাররা আলীমের নির্দেশে হত্যা করে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের ১৭ উইংয়ের ইপিআর সুবেদার মেজর জব্বল হোসেনকে।
আপিল প্রসঙ্গ:
ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষ। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে এ আবেদন। আপিল নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে।
নিরাপত্তা বেষ্টনী:
আলীমের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল-সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয় কড়া নিরাপত্তা-বেষ্টনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের পাশাপাশি বাড়ানো হয় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি। পরিচয় নিশ্চিত করে সংশ্লি¬ষ্টদের কড়া নিরাপত্তায় প্রবেশ করানো হয় ট্রাইব্যুনালে।
বিচার কার্যক্রম:
২০১১ সালের ২৭ মার্চ আবদুল আলীম গ্রেপ্তার হন। এক লাখ টাকা মুচলেকা এবং ছেলের জিম্মায় পরে জামিন নেন তিনি। পরে বেশ কয়েকদফা বাড়ানো হয় এ জামিনের মেয়াদ। ২০১২ সালের ১১ জুন তার বিচার শুরু হয় ১৭ অভিযোগে। এর আগে ২০১২ সালের ১৫ মার্চ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয় ১৬ এপ্রিল। গত ৪ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ও রানা দাশ গুপ্ত। অন্যদিকে গত ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর এবং ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় কার্যদিবস আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আহসানুল হক, তাজুল ইসলাম ও আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান। ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলীমের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন জন। অন্যদিকে গত বছরের ৬ আগস্ট থেকে এ বছরের ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩৫ জন। তবে ১৯তম সাক্ষী প্রসিকিউশন বৈরী ঘোষণা করে জেরা করেছে আবেদ হোসেনকে। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া দুই জনের জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের অন্য সব রায়:
গত ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। আর ৫ ফেব্র–য়ারি দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্ল¬াকে একই ট্রাইব্যুনাল দেন যাবজ্জীবন কারাদ-। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ দলের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদ- দেন ২৮ ফেব্রুয়ারি। ট্রাইব্যুনালের চতুর্থ রায়ে একই দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকেও দেওয়া হয় মৃত্যুদ-। ১৫ জুলাই পঞ্চম রায়ে দলের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদ- দেন ট্রাইব্যুনাল। দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয় ১৭ জুলাই। ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদ- দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন