সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': আজ পবিত্র হজ্জ:

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': আজ পবিত্র হজ্জ: : “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শরীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক্।” লাখ লাখ কণ্ঠের এই ধ্বনীতে আজ সোমবার মুখরিত হয়ে উঠবে আরাফাত ময়দান। বিঘোষিত হবে মহান আল্লাহর একত্ব ও মহত্ত্বের কথা। কাফনের কাপড়ের মতো সাদা দু’টুকরো ইহরামের কাপড় পরে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়বে আল্লাহর বান্দাহগণ। সৌদীআরবের গ্র্যান্ড ইমাম হাজীদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করবেন। আল্লাহ তায়ালা এবং বান্দার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের অনন্য আবহে বিরাজ করবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্য। ফজরের নামাজ মিনায় আদায় করার পর হাজীগন ইহরাম বাঁধা অবস্থায় আরাফাত ময়দানে এসে অবস্থান গ্রহণ করবেন। এই আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়েই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। লাখো মানুষের উদ্দেশে প্রদত্ত এই ভাষণের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছিল দ্বীনের পরিপূর্ণতা লাভের। আজো সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভাষণ দেয়া হয়। ভাষনে গোটা বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। মুসলিম উম্মাহ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। আর হাজীগণ এক আবেগঘন পরিবেশে মহান আল্লাহর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়ার মন-মানসিকতা নিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। তারা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, নিজের পরিবার পরিজন, সমাজ ও রাষ্ট্রের সুখ শান্তির জন্য আল্লাহর জন্য দোয়া করেন। সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ্জ। আজ ফজরের নামায মিনায় আদায় করার আরাফার ময়দানে হাজীগণ অবস্থান করবেন। এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকতে হবে। সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা’র নামায এশা'র ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামায পড়ে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। পবিত্র মক্কা থেকে প্রায় ৯ মাইল পূর্বদিকে একটি পাহাড়ের নাম ‘জাবালুর রহমত’ বা করুণার পাহাড়। এই পাহাড় সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রলম্বিত বিরাট প্রান্তরটি আরাফাত প্রান্তর নামে পরিচিত। পাহাড়টি মধ্যম আকৃতির এবং গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত। এর উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট। এই পাহাড়ের পূর্বদিকে প্রস্তরের সিঁড়ি রয়েছে। এর ষষ্ঠ ধাপের উচ্চতা বরাবর আগে একটি উন্নত মঞ্চ ও একটি মিম্বর ছিল। এই মিম্বরে দাঁড়িয়ে প্রতি বছর ৯ জিলহজ্জ আরাফার দিন ইমাম সাহেব খুতবা প্রদান করতেন। এখন আর সেই মঞ্চ ও মিম্বার নেই এবং এখান হতে হজ্জের খুতবাও প্রদান করা হয় না। বরং এখন খুতবা দেয়া হয় মসজিদে নামিরা হতে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর মাত্র ১ দিন হাজীরা আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। তখন তাদের পরনে থাকে কাফনের কাপড়ের মতো সেলাইবিহীন সাদা দুই টুকরো কাপড়। হাজীরা আরাফারাতের ময়দানে অবস্থানকালে উচ্চস্বরে লাব্বাইকা পাঠ করেন, যদি সম্ভব হয় হজ্জের খুতবা শ্রবণ করেন। যোহর ও আছরের নামায একত্রে এবং মাগরিব ও এশা’র নামাযও একত্রে আদায় করেন, রোযা রাখেন, আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করেন, কুরআন তেলাওয়াত, দরূদ ও সালাম প্রেরণ এবং ইহ ও পরকালের কল্যাণ কামনায় অবস্থানকালটি অতিবাহিত করেন। হযরত আবদুর রহমান বিন ইয়ামার আদ-দায়লি (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আরাফাই তো হজ্জ।” ইমাম শাওকানী (রহ.) এ কথার ব্যাখ্যায় বলেছেন, “যে ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট দিনে উক্ত ময়দানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য অর্জন করল তার হজ্জ হয়ে গেল।” ইমাম তিরমিযী (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আরাফাত ময়দানে অবস্থান করার ভাগ্য যার হয়নি তার হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে।”

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': :আব্দুল আলীমের আমরণ কারাদন্ড:


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
:আব্দুল আলীমের আমরণ  কারাদন্ড:

সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবীদ আব্দুল আলীমকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসামির উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ বিচারকক্ষে গতকাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ৮৩ বছর বয়সি প্রবীণ এ রাজনীতিবিদকে এই দন্ড- প্রদান করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা ১৭টি অভিযোগের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে নয়টি। প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি আটটি অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে আসামিকে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে আসামিপক্ষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটিই অষ্টম এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লি¬ষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রায়। ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য পর্যায়ক্রমে পাঠ করেন ইংরেজিতে লিখিত ১৯১ পৃষ্ঠা রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় রায় ঘোষণা উপলক্ষে। 
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রায়ে বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি অভিযোগের মধ্যে নয়টি ঘটনায় আলীমের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ঘটনায় আলীম যেভাবে গণহত্যা ও হত্যাদন্ড ঘটিয়েছেন অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। কোনো মানুষ, যে ফিজিকালি ও মেন্টালি আনফিট, তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিৎ নয়।  কিন্তু আব্দুল আলীমের অপরাধ এতোটাই ঘৃণ্য, তাকে মুক্ত রাখলে মানবতার অবমাননা হবে। এ কারণে তাকে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বাকি জীবন কাটাতে হবে। তাহলে হয়তো কৃতকর্মের জন্য তার ভেতরে অনুশোচনার সৃষ্টি হবে।
এদিকে রায়ের পর আব্দুল আলীমের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা বলেছেন, আমরা আপিল করব। এ মামলার শুনানিতে আসামিপক্ষ দাবি করেছিলো, প্রসিকিউশন যেসব স্থানে যেসব ঘটনায় আলীমের জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে, সেখানে সে সময় তিনি উপস্থিতই ছিলেন না।  কিন্তু রায়ে বিচারক বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওই দাবি প্রমাণ করতে পারেনি। এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আহসানুল হক বলেন, ‘নো কমেন্টস’। অপরদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, আদালতের রায় আমাদের মানতে হবে। আমরা অবনত মস্তকে মেনে নিচ্ছি। তবে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় হলে আমাদেরও ভালো লাগতো। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে কোনো গ্রাউন্ড পাওয়া গেলে আপিল করবো। রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও আপিলের বিষয়ে একই কথা বলেছেন। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আব্দুল আলিম যে যুদ্বাপরাধী তা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তার শারীরিক অক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে আমৃত্যু কারাদ- দিয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এ প্রসিকিউটর বলেন, আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারহীনতার রেওয়াজ বিলুপ্ত হবে।
প্রথম কার্যক্রম :
গতকাল সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এজলাসে আসন গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ডান পাশে ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং কনিষ্ঠ সদস্য বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম আসন গ্রহণ করেন বাঁ পাশে। মূল রায়ের পাঠ শুরু হয় এরপরে। ৬৮৮ অনুচ্ছেদ সংবলিত রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ থেকে প্রথমে পাঠ করেন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। ১০টা ৫৪ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম রায় পড়েন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। এরপর রায় পড়া শুরু করে ১২টা ৮ মিনিটে তা শেষ করেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া। আর শেষ অংশের পাঠ শুরু করে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান  দন্ড ঘোষণার পর রায় দেওয়া শেষ করেন বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। রায় ঘোষণার পর সঙ্গে সঙ্গে এজলাস ত্যাগ করেন ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য। দন্ড শুনে কোন মন্তব্য করেননি আবদুল আলীম। রায় ঘোষণা উপলক্ষে এর আগে সকাল পৌনে দশটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয় আলীমকে। হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয় ১০টা ৩৫ মিনিটে। 
বিচারকক্ষ: 
এজলাস সামনে রেখে ডান পাশে প্রসিকিউটররা আসন গ্রহণ করেন প্রসিকিউশনের জন্য নির্ধারিত স্থানে। বাঁ পাশে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল হক ও অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট এম কে রহমান, প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী, অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ। ছিলেন ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীম এবং খালিদ বিন আলীমও। আর স্ট্রেচারে ভর করে কাঠগড়ার চেয়ারে ছিলেন আবদুল আলীম। এ ছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়।
প্রমাণিত নয়টি অভিযোগ: 
ট্রাইব্যুনালে ১৭টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আবদুল আলীমের বিচার শুরু হয় ২০১২ সালের ১১ জুন। অভিযোগের মধ্যে ছিল, গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুট ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধ। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, দ্বাদশ ও চতুর্দশ অভিযোগ। এর মধ্যে প্রমাণিত দ্বিতীয়, অষ্টম, দশম ও চতুর্দশ অভিযোগে আমৃত্যু কারাদন্ড দেওয়া হয় আলীমকে। আর ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম ও দ্বাদশ অভিযোগে ২০ বছর করে এবং প্রথম অভিযোগে দশ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় আসামিকে। তবে প্রমাণিত না হওয়ায় আলীমকে খালাস দেওয়া হয় বাকি সব অভিযোগ থেকে। এর মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষী হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন। 
প্রথম অভিযোগ অনুসারে, ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল আলীমের নেতৃত্বে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার দমদমা গ্রামের মেহেরউদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে হামলা চালায় রাজাকার বাহিনী। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন মেহেরউদ্দিন। দ্বিতীয় অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল জয়পুরহাটের কড়ইকাদিপুর এলাকার চকপাড়া, সোনার পাড়া, পালপাড়া ও যুগীপাড়ার হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের মোট ৩৭০ জনকে গুলি করে হত্যা করে আলীমের নেতৃত্বাধীন রাজাকার বাহিনীসহ পাকিস্তানি সেনারা। ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের মে মাসের প্রথম দিকে আটক করা হয় আক্কেলপুরের দশজনকে। তাদের ‘শেষ করে দেওয়া’র নির্দেশ দেন আলীম। পরে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হলে হত্যা করা হয় নয়জনকে। তাদের মধ্য থেকে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হন মোফাজ্জল নামের এক ব্যক্তি। সপ্তম অভিযোগ বলছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মে অপহরণের পর আলীমের পরামর্শ ও প্ররোচনায় গুলি করে হত্যা করা হয় নওদা গ্রামের চার জনকে। অষ্টম অভিযোগ অনুযায়ী, একাত্তরের মে মাসের শেষের দিকে আলীমের নির্দেশে হত্যা করা হয় বাদল, সচীন ওরফে ভানু, প্রবাস চন্দ্র শীল, মনিভূষণ চক্রবর্তী, কার্তিক চন্দ্র বর্মণ, নিমাই চন্দ্র বর্মণ ও প্রিয়নাথ বর্মণসহ অপরিচিত আরও তিন জনকে। নবম অভিযোগ হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ১৪ জুন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর হয়ে ভারতে যাওয়ার পথে শান্তি কমিটির লোকজনের হাতে ধরা পড়েন বগুড়ার খোকন পাইকারসহ ১৫ যুবক। এরপর তাদের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শেষে হত্যা করা হয় আলীমের নির্দেশে। দশম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের জুন মাসের শেষের দিকে জয়পুরহাটের সদর রোডের শাওনলাল বাজলার গদিঘরে শান্তি কমিটির অফিসে বসে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সন্দেহে পাহাড়পুর থেকে ধরে আনা ২৬ যুবককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন আলীম। পরে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই ২৬ যুবককে। দ্বাদশ অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই অপহরণের পর ব্যাপক নির্যাতন শেষে আলীমের নির্দেশে ডাক্তার আবুল কাশেমকে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৬ জুলাই। চতুর্দশ অভিযোগে বলা হয়, আক্কেলুপুর সদরের ফজলুল করিম ও অন্য দুজনকে আলীমের নির্দেশে মুখে চুনকালি মাখিয়ে জয়পৃরহাট শহর প্রদক্ষিণ করানো হয় ১৯৭১ সালের ৭ অক্টোবর। পরে তাদের হত্যা করা হয় গুলি করে। 
যেসব অভিযোগে খালাস:
তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুল আলীমের পরামর্শ ও প্ররোচনা এবং চিরোলা গ্রামের শান্তি কমিটির সদস্য রিয়াজ মৃধার সহাযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা ২৮ জনকে বেঁধে গুলি করে একাত্তরের আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহে। এতে নিহত হন ২২ জন। ছয়জন বেঁচে যান প্রাণে। চতুর্থ অভিযোগ থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একদিন পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে আলীম নামেন পাঁচবিবি বকুলতলা রেললাইনের কাছে। এরপর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কোকতারা, বাগজানা ও কুটাহারা গ্রামে হানা দিয়ে বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয় এবং ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয় ১৯ জনকে। পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের বৈশাখ মাসের শেষ দিকে জয়পুরহাটের দক্ষিণ পাহুনন্দা মিশন স্কুলে আলীমের নির্দেশ ও প্ররোচনায় হত্যা করা হয় ৬৭ জন হিন্দুকে। একাদশ অভিযোগ অনুসারে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জুন মাসের শেষের দিকে কয়েকজন গাড়োয়াল এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ আটক করা হয় ২৬ জনকে। এরপর গুলি হত্যা করে তাদের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় আলীমের নির্দেশে। ত্রয়োদশ অভিযোগ থেকে বলা হয়, একাত্তরের সেপ্টেম্বরে আলীমের নির্দেশ ও পরামর্শে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে হত্যা করে ১১ যুবককে। পঞ্চদশ অভিযোগ হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর ২৫ জনকে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয় আলীমের নির্দেশে। পরে তাদের হত্যা করা হয়। ষোড়শ অভিযোগ বলছে, একাত্তরে আক্কেলপুরের বিভিন্ন স্থানে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের মানবতাবিরোধী অপরাধে উৎসাহিত করেন আলীম। সপ্তদশ অভিযোগ হচ্ছে, রাজাকাররা আলীমের নির্দেশে হত্যা করে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের ১৭ উইংয়ের ইপিআর সুবেদার মেজর জব্বল হোসেনকে।  
আপিল প্রসঙ্গ: 
ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষ। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে এ আবেদন। আপিল নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে। 
নিরাপত্তা বেষ্টনী:
আলীমের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল-সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয় কড়া নিরাপত্তা-বেষ্টনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের পাশাপাশি বাড়ানো হয় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি। পরিচয় নিশ্চিত করে সংশ্লি¬ষ্টদের কড়া নিরাপত্তায় প্রবেশ করানো হয় ট্রাইব্যুনালে।  
বিচার কার্যক্রম:
২০১১ সালের ২৭ মার্চ আবদুল আলীম গ্রেপ্তার হন। এক লাখ টাকা মুচলেকা এবং ছেলের জিম্মায় পরে জামিন নেন তিনি। পরে বেশ কয়েকদফা বাড়ানো হয় এ জামিনের মেয়াদ। ২০১২ সালের ১১ জুন তার বিচার শুরু হয় ১৭ অভিযোগে। এর আগে ২০১২ সালের ১৫ মার্চ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয় ১৬ এপ্রিল। গত ৪ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ও রানা দাশ গুপ্ত। অন্যদিকে গত ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর এবং ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় কার্যদিবস আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আহসানুল হক, তাজুল ইসলাম ও আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান। ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আলীমের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন জন। অন্যদিকে গত বছরের ৬ আগস্ট থেকে এ বছরের ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩৫ জন। তবে ১৯তম সাক্ষী প্রসিকিউশন বৈরী ঘোষণা করে জেরা করেছে আবেদ হোসেনকে। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া দুই জনের জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের অন্য সব রায়:
গত ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। আর ৫ ফেব্র–য়ারি দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্ল¬াকে একই ট্রাইব্যুনাল দেন যাবজ্জীবন কারাদ-। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ দলের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদ- দেন ২৮ ফেব্রুয়ারি। ট্রাইব্যুনালের চতুর্থ রায়ে একই দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকেও দেওয়া হয় মৃত্যুদ-। ১৫ জুলাই পঞ্চম রায়ে দলের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদ- দেন ট্রাইব্যুনাল। দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয় ১৭ জুলাই। ১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদ- দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে।

মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': 'ছয়ফল' বড় ভালো লোক ছিলেন: ফুলবাড়ীতে ১৬ বছর আগের মৃত ব্যক্তির অক্ষত লাশ উদ্ধার:



দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
'ছয়ফল' বড় ভালো লোক ছিলেন:
ফুলবাড়ীতে ১৬ বছর আগের মৃত ব্যক্তির অক্ষত লাশ উদ্ধার:

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের চর মেকলী গ্রামে ১৬ বছর আগের মৃত ব্যক্তির কাফন পরা অক্ষত লাশ উদ্ধার হয়েছে। ওই মৃত ব্যক্তির নাম ছয়ফল মিঞা। তার বাড়ি চর মেকলী গ্রামে। লাশটি দেখার জন্য ওই গ্রামে উত্সুক জনতার ভিড় পড়ে যায়। 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১৫/১৬ বছর আগে চর মেকলী গ্রামের ছয়ফল মিঞা মারা যান । তাকে দাফন করা হয় তার পারিবারিক কবর স্থানে। দাফনের ৮/১০ বছর পর ওই গ্রামে ধরলা নদীর ভাঙন দেখা দিলে কবর ভেঙে তার অর্ধেক লাশ বের হয়। বিষয়টি ছয়ফলের পরিবার না জানলেও স্বপ্নে তার পরিবারকে জানাতে পারে। পরিবারের লোকজন স্বপ্ন দেখে কবরের পাশে গেলে লাশের সন্ধান পায়। সে সময় তার অক্ষত কাফন পরা লাশটি অন্যত্র দাফন করে তার পরিবার। কিন্তু সর্বগ্রাসী ধরলা নদী পিছু ছাড়েনি ছয়ফলের কবর। গত কয়দিন ধরে চর মেকলী গ্রামে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিলে ছয়ফলের কবর আবারও ভাঙনের কবলে পড়ে। ধরলা নদীর ভাঙনে তার লাশ বের হলে গত শনিবার এলাকাবাসী তা দেখতে পায়। পড়ে সেখান থেকে কাফন পরা অক্ষত অবস্থায় ছয়ফলের লাশ উদ্ধার করে গতকাল পরিবারের সম্মতিতে সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব-ধনীরাম গ্রামের তোফাজ্জল মেম্বারের বাড়ির পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বড়ভিটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন সরকার ও স্থানীয় পূর্ব বড়লই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোজাম্মেল হকসহ অনেকে জানান, মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় ভালো গুণের অধিকারী থাকায় হয়তো দীর্ঘদিন পরেও তার লাশটি নষ্ট হয়নি।

সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': মুলায়ম সিং যাদবের দাবি: তৃতীয় ফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত হবেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী:


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
মুলায়ম সিং যাদবের দাবি:
তৃতীয় ফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত হবেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী:

ভারতের সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান মুলায়ম সিং যাদব বলেছেন, ভারতের পরবর্তী সরকার গড়বে তৃতীয় ফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রীও হবেন এই ফ্রন্ট থেকে। তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই গঠিত হবে তৃতীয় ফ্রন্ট। এই লক্ষ্যে তিনি বামদলগুলোর সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান মুলায়ম।
আজ সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
ভারতের পরবর্তী সংসদ বা লোকসভা নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে। কিন্তু ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচারণা। তবে কোন দল ক্ষমতায় যাবে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। যদিও কংগ্রেস ও বিজেপি জোট মনে করছে তারাই এবার ক্ষমতায় যাবে, কিন্তু ভারতের বিভিন্ন জনসমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ বা কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের এবার সরকার গড়ার মতো আসন পাওয়া কঠিন হবে। বরং এবারও আঞ্চলিক দলের প্রাধান্য থাকবে।
এদিকে মুলায়ম সিং যাদবের ওই দাবির পর সংযুক্ত জনতা দলের (জেডিইউ) সভাপতি শারদ যাদব বলেছেন, তৃতীয় ফ্রন্ট হলে স্বাগত জানাব। আর সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, তৃতীয় বিকল্প শক্তি গড়ার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে তাঁরাও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে বিজেপির নেতা বলবীর পুঞ্জ বলেছেন, দিবাস্বপ্ন দেখছেন মুলায়ম সিং যাদব।

রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৩

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : কাদের সিদ্দিকী


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : কাদের সিদ্দিকী

 : বাগেরহাটে বিকল্পধারার কর্মী সমাবেশে দলের প্রেসিডেন্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করছে। তাই এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করেছে আবার এই দেশকে ভারতের অধীনে দিতে রামপালের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। তিনি এই সরকারের সকল  কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 
এই কর্মী সমাবেশে বিশেষ অতিথি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম) বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলের কাছে খবর আছে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে আর আমার কাছে খবর আছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০/৪০টি আসনের বেশি পাবে না। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা করছে। বাংলাদেশে একটি ছাগলের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে, তবে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। 
গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের স্বাধীনতা উদ্যানে বাগেরহাট জেলা বিকল্পধারার কর্মী সমাবেশে প্রধান ও বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এ কথা বলেন। বাগেরহাট জেলা বিকল্পধারার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব বেগ মাহাতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের  কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, মহিলাধারার সভানেত্রী এ্যানজেল মৃধা, জেলা যুবধারার সভাপতি বেল্লাল হোসেন প্রমুখ। 

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': রুলের প্রতিবাদে আইনজীবিদের বিক্ষোভ ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকদের সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি -খন্দকার মাহবুব হোসেন


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
রুলের প্রতিবাদে আইনজীবিদের বিক্ষোভ
ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকদের সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি -খন্দকার মাহবুব হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার : ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে করা মন্তব্যে বিচারকদের সম্পর্কে কোন কিছু বলা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। কেননা বিচারক কোন মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন না। তিনি থাকেন নিরপেক্ষ। তিনি বলেছেন যদি আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া হয় তবে এর জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার হওয়া উচিত। তা না হলে দেশে আইনের শাসন থাকবে না এবং কারো সাংবিধানিক নিরাপত্তা থাকবে না।

গতকাল রোববার বেলা পৌনে ১টায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমি ট্রাইব্যুনাল এবং বিচারকদের সম্পর্কে কোন মন্তব্য করি নাই। আমার বক্তব্য বিকৃত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতে আমার বক্তব্য কারো প্রতি হুমকি নয়। এটি একটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা।

সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের দু’বারের নির্বাচিত সভাপতি ও জনপ্রিয় আইনজীবী এই নেতা বলেন, বিচারক কোন মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন না। তিনি থাকেন নিরপেক্ষ। মামলার বাদী, বিবাদী এবং যারা সাক্ষী দেন তারাই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। বিচারক মামলার সাক্ষী প্রমাণ শুনে তা পর্যালোচনা করে রায় দেন। তার রায় বাদীপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সাক্ষী প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। আমাদের দ-বিধি আইনেও আদালতে মিথ্যা মামলা এবং সাক্ষী দেয়া দ-নীয় অপরাধ। তাই ভবিষ্যতে যদি দেখা যায় মিথ্যা মামলা তৈরি করে এবং মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে ট্রাইব্যুনালে কাউকে সাজা দেয়া হয়েছে তবে অবশ্যই আইনত তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

এদিকে সিনিয়র আইনজীবী ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেনের  বিরুদ্ধে দেয়া রুলের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টে মিছিল করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রুল জারির পরপরই মিছিল করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাদা, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ শতাধিক আইনজীবী। 

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রুল দিয়েছে তা অবৈধ ও পক্ষপাতদুষ্ট।

এ রুলের বিরোধিতা করে তারা বলেন, আমরা এ রুল মানি না মানব না। অবৈধ রুল বাতিল কর, করতে হবে। খন্দকার মাহবুবের বিরুদ্ধে দায়ের করা রুল বাতিল না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে তারা ঘোষণা দেন।

দৈনিক আজিজ: 'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন': :জামায়াত ধর্ম বিরোধী: সৈয়দ হায়দার মউদুদী:


দৈনিক আজিজ:
'বিশ্ব সংবাদ পড়ছি 'রমেশ পাইন':
:জামায়াত ধর্ম বিরোধী: সৈয়দ হায়দার মউদুদী:

একাত্তরে গণহত্যা, নির্যাতনের জন্য জামায়াতে ইসলামের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর পুত্র সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী। এ দেশে ‘জামায়াতে ইসলামি' নামের রাজনৈতিক দলটির কোন রাজনীতি করার অধিকার নেই, এমনও বলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘গণহত্যার এই অভিযোগ কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারবে না জামায়াত। নেতারা তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা না চাওয়ার কারণে দলের তরুণ কর্মীরা বিপাকে পড়েছে। তারা কোনদিকে যাবে তা তারা বুঝতে পারছে না।'
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে সৈয়দ হায়দার মওদুদী এখন বাংলাদেশে। রবিবার তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবীর।
হায়দার মওদুদী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাচালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার প্রধান জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী একবার পাকিস্তানে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি বাঙালিদের দমনে আলবদর বাহিনী গঠন এবং তাদের প্রশিক্ষণের কথা স্বীকার করেন।
মওদুদীর ছেলে বলেন, আলবদর বাহিনীর সাথে জামায়াতের সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কারণ এই বাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় তিনি একবারে ১৫ জন বাঙালিকে হত্যা করার কথা জানিয়েছিলেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।  তার ওপরে ছিলেন জামায়াতের একজন নায়েবে আমির। এরপরও জামায়াতের এই কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
মওদুদীর ছেলে আরো বলেন, "অপরাধ স্বীকার করে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। তারা বলতে পারে, আমাদের নেতারা যা করেছে তা ভুল করেছে। আমরা এর জন্য ক্ষমা চাই। নইলে দলের তরুণরা কোনদিকে যাবে? তারা না পারছে এইদিকে থাকতে না পারছে ওদিকে যেতে।"
সৈয়দ হায়দার মওদুদী বুধবার বাংলাদেশে আসার পর থেকেই আলোচনার খোরাক হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি করার অধিকার নেই-এমন বক্তব্য দেয়ার পর থেকে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তোরা হচ্ছে। মওদুদীর সম্পত্তির লোভে তিনি দলটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, এমন কথাও ছড়াচ্ছে জামায়াত। এরও জবাব দেন মওদুদীর ছেলে। তিনি বলেন, "জামায়াত কোন অধিকারে এসব কথা বলে। আমি কি তাদের সাথে কোনো কথা বলেছি নাকি বাংলাদেশ জামায়াতের সাথে কোনো যোগাযোগ করেছি। আর আমার বাবার সম্পত্তিতে তো আমাদেরই অধিকার আছে। জামায়াতের তো নাই।"
মওদুদীর ছেলে হয়েও জামায়াতে যোগ দেননি হায়দার মওদুদী। কেবল তিনি না, তার নয় ভাইয়ের কাউকে জামায়াতের রাজনীতিতে জড়াতে দেননি মওদুদী। তিনি জানান, কেবল রাজনীতি না, জামায়াতের কোনো বইপত্র পড়তে দেননি তাঁর বাবা।
সৈয়দ হায়দার মওদুদী জানান, জামায়াত প্রতিষ্ঠার আগে ভারতে প্রখ্যাত মুসলিম নেতা আবুল কালাম আযাদের সঙ্গে তার বাবার কথা হয়েছিল। জামায়াতের গঠনতন্ত্র এবং উদ্দেশ্য পড়ে আযাদ তাঁকে এমন কোনো দল গড়তে নিষেধ করেছিলেন। এ ধরনের দল হলে সব সাম্প্রদায়িক শক্তি এতে ভিড় করবে বলেও হুঁশিয়ার দিয়েছিলেন তিনি। হায়দার মওদুদী বলেন, আবুল কালাম আযাদের ভবিষ্যতবাণী সত্য হয়েছে।
হায়দার মওদুদী বলেন, ‘কেউ জামায়াতের বিরোধীতা করলেই তাকে অমুসলিক-কাফের বলে তারা। কিন্তু ইসলামের নামে এভাবে বিভক্তি করা কোনো মুসলমান করতে পারে না।'
তিনি আরো বলেন, "মুসলিম লীগ বলতো কেবল তারাই মুসলমান। জামায়াতও তাই করে। এটা কেমন কথা। এরা ইসলামের নামে এভাবে বিভক্তি করে ইসলামের ক্ষতি করছে। মহানবী (সা.) এর দল একটিই। কোনো ইসলামী দল একে ভাগ করতে পারে না।"
মওদুদীর ছেলে বলেন, "ইসলামের নামেই জামায়াত সব অপকর্ম করেছে। তারা আল্লাহু আকবার বলেই মুসলমানদের হত্যা করেছে। এটা কেমন কথা? আল্লাহ্ তো বলেছেন হত্যা করা গুরুতর অপরাধ। এখন তো এই অপরাধের বিচার হচ্ছে। এর বিরোধীতা করাও উচিত না কারও।"